1:01 am, Sunday, 7 December 2025

পুরান ঢাকায় ‘সন্ত্রাসী’ মামুনকে গুলি করা দুই শুটার গ্রেপ্তার

  • Reporter Name
  • Update Time : 09:17:59 am, Wednesday, 12 November 2025
  • 13 Time View

পুলিশ পুরান ঢাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুন (৫৫) হত্যায় অংশ নেওয়া দুই শুটারকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা দুজনই পেশাদার শুটার হিসেবে কাজ করেন।

আজ মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় কুমিল্লা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তিনি বলেন, “গ্রেপ্তার দুজন সীমান্ত পাড়ি দিয়ে পালানোর চেষ্টা করছিলেন।”

এর আগে, গত সোমবার (১০ নভেম্বর) পুরান ঢাকার সূত্রাপুর এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় তারিক সাইফ মামুনকে। স্বজনরা জানান, পুরোনো একটি মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়ে রাজধানীর আফতাবনগরের বাসায় ফেরার পথে সন্ত্রাসীরা মামুনকে গুলি করে হত্যা করে। দুই বছর আগেও রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলায় ২০ বছরের বেশি সময় জেল খেটে ২০২৩ সালে জামিনে মুক্তি পান মামুন। জামিনের তিন মাসের মাথায় ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় তাকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায় একদল সন্ত্রাসী। তখন পাশ দিয়ে যাওয়া মোটরসাইকেল আরোহী ভুবন চন্দ্র শীলের মাথায় একটি গুলি লাগে। পরে ২৫ সেপ্টেম্বর ধানমন্ডির পপুলার হাসপাতালে ভুবন মারা যান। এ ঘটনার পর পুলিশ বলেছিল, গুলি ছুড়েছিলেন কারাবন্দি শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের লোকজন। ইমন ও মামুন একসময় ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর ও তেজগাঁও এলাকার আতঙ্ক ছিলেন। তাদের গড়ে তোলা বাহিনীর নাম ছিল ‘ইমন-মামুন’ বাহিনী। তারা দুজনই চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী ও সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের ভাই সাঈদ আহমেদ টিপু হত্যা মামলার আসামি।

পুলিশ বলছে, এই মামুন তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী। ‘ইমন-মামুন’ গ্রুপের অন্যতম প্রধান এই মামুন। একসময় ছিলেন আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের সহযোগী। অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

ঘটনার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, মামুন সকাল ১০টা ৫২ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে গলি থেকে মূল সড়কের দিকে একা হেঁটে যাচ্ছিলেন। এরপর ১০টা ৫৩ মিনিট ১১ সেকেন্ডে তাকে সড়ক থেকে দৌড়ে ফিরতে দেখা যায়। এসময় আশপাশের পথচারীরা গুলির শব্দে ছোটাছুটি করতে থাকেন। তিন সেকেন্ড পর দেখা যায়, দুই ব্যক্তি গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে আসছেন। তারা মামুনকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়েন। পরে দুজন অস্ত্র কোমরে গুজে দৌড়ে চলে যান। তখন সড়কে অনেকেই চলাচল করছিলেন।

তবে পুলিশ বলছে, সোমবার (১০ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে হত্যার শিকার হওয়া মামুন একসময় আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের সহযোগী ছিলেন। অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। মামুন চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী ও সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের ভাই সাঈদ আহমেদ টিপু হত্যা মামলার আসামি ছিলেন।

ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মহিবুল্লাহ বলেন, “হঠাৎ হাসপাতালের সামনে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পরে শব্দ শুনে সবাই প্রধান ফটকের সামনে এসে মামুনকে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখেন। তখন তাকে উদ্ধার করে এই হাসপাতালেই আনা হয়। তবে অবস্থার অবনতি হতে থাকলে সেখান থেকে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।”

মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফারুক হোসেন বলেন, “মামুনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।”

ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বলেন, “একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবেই পুলিশের খাতায় নিহত মামুনের নাম রয়েছে।”

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস আজ

পুরান ঢাকায় ‘সন্ত্রাসী’ মামুনকে গুলি করা দুই শুটার গ্রেপ্তার

Update Time : 09:17:59 am, Wednesday, 12 November 2025

পুলিশ পুরান ঢাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুন (৫৫) হত্যায় অংশ নেওয়া দুই শুটারকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা দুজনই পেশাদার শুটার হিসেবে কাজ করেন।

আজ মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় কুমিল্লা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তিনি বলেন, “গ্রেপ্তার দুজন সীমান্ত পাড়ি দিয়ে পালানোর চেষ্টা করছিলেন।”

এর আগে, গত সোমবার (১০ নভেম্বর) পুরান ঢাকার সূত্রাপুর এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় তারিক সাইফ মামুনকে। স্বজনরা জানান, পুরোনো একটি মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়ে রাজধানীর আফতাবনগরের বাসায় ফেরার পথে সন্ত্রাসীরা মামুনকে গুলি করে হত্যা করে। দুই বছর আগেও রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলায় ২০ বছরের বেশি সময় জেল খেটে ২০২৩ সালে জামিনে মুক্তি পান মামুন। জামিনের তিন মাসের মাথায় ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় তাকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায় একদল সন্ত্রাসী। তখন পাশ দিয়ে যাওয়া মোটরসাইকেল আরোহী ভুবন চন্দ্র শীলের মাথায় একটি গুলি লাগে। পরে ২৫ সেপ্টেম্বর ধানমন্ডির পপুলার হাসপাতালে ভুবন মারা যান। এ ঘটনার পর পুলিশ বলেছিল, গুলি ছুড়েছিলেন কারাবন্দি শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের লোকজন। ইমন ও মামুন একসময় ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর ও তেজগাঁও এলাকার আতঙ্ক ছিলেন। তাদের গড়ে তোলা বাহিনীর নাম ছিল ‘ইমন-মামুন’ বাহিনী। তারা দুজনই চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী ও সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের ভাই সাঈদ আহমেদ টিপু হত্যা মামলার আসামি।

পুলিশ বলছে, এই মামুন তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী। ‘ইমন-মামুন’ গ্রুপের অন্যতম প্রধান এই মামুন। একসময় ছিলেন আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের সহযোগী। অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

ঘটনার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, মামুন সকাল ১০টা ৫২ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে গলি থেকে মূল সড়কের দিকে একা হেঁটে যাচ্ছিলেন। এরপর ১০টা ৫৩ মিনিট ১১ সেকেন্ডে তাকে সড়ক থেকে দৌড়ে ফিরতে দেখা যায়। এসময় আশপাশের পথচারীরা গুলির শব্দে ছোটাছুটি করতে থাকেন। তিন সেকেন্ড পর দেখা যায়, দুই ব্যক্তি গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে আসছেন। তারা মামুনকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়েন। পরে দুজন অস্ত্র কোমরে গুজে দৌড়ে চলে যান। তখন সড়কে অনেকেই চলাচল করছিলেন।

তবে পুলিশ বলছে, সোমবার (১০ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে হত্যার শিকার হওয়া মামুন একসময় আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের সহযোগী ছিলেন। অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। মামুন চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী ও সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের ভাই সাঈদ আহমেদ টিপু হত্যা মামলার আসামি ছিলেন।

ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মহিবুল্লাহ বলেন, “হঠাৎ হাসপাতালের সামনে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পরে শব্দ শুনে সবাই প্রধান ফটকের সামনে এসে মামুনকে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখেন। তখন তাকে উদ্ধার করে এই হাসপাতালেই আনা হয়। তবে অবস্থার অবনতি হতে থাকলে সেখান থেকে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।”

মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফারুক হোসেন বলেন, “মামুনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।”

ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বলেন, “একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবেই পুলিশের খাতায় নিহত মামুনের নাম রয়েছে।”