বিশ্বাসের প্রতিধ্বনি নিউজ ডেস্কঃ রাজধানী ঢাকার কোনো ফ্ল্যাট, মেস, ছাত্রাবাস বা হোটেলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা অবস্থান করলে, সেই তথ্য পুলিশকে জানাতে নগরবাসীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম।
বুধবার বিকালে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। নজরুল ইসলাম আরও বলেন, যারা তথ্য দেবেন তাদের নাম-পরিচয় গোপন রাখা হবে।
তিনি বলেন, আবাসিক হোটেল, ফ্ল্যাট ও ছাত্রাবাসে পুলিশের রেইড দেওয়া হয়। গোয়েন্দা নজরদারি চলছে। অনেক ফ্ল্যাটে থাকছেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। জনগণ পুলিশকে তথ্য দিলে পুলিশ সেখানে গিয়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করবে। তাদের গ্রেপ্তার করলে ঝটিকা মিছিলের সংখ্যা কমে যাবে। যারা তথ্য দেবেন তাদের নাম-পরিচয় গোপন রাখা হবে।
নজরুল ইসলাম বলেন, কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ একটি সংগঠনের কর্মীদের বিষয়ে তথ্য জানলে তা পুলিশকে জানানো নাগরিক দায়িত্ব। আপনারা নাগরিক দায়িত্ব পালন করবেন। বিশেষ করে বিভিন্ন ফ্ল্যাটে, আবাসিক হোটেলে, ছাত্রাবাসে এবং এ সমস্ত জায়গায় যদি নিষিদ্ধ সংগঠনের লোকজন জমায়েত হয়ে থাকে বা কোনো অপতৎপরতা করে তাহলে আপনারা আমাদের আগাম জানাতে পারেন।
আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের সময় ২৪৪ জনের গ্রেপ্তারের তথ্য জানাতে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি স্বৈরাচারের থাবা থেকে মুক্ত হয়ে স্থিতিশীল অবস্থায় এসে একটি সাধারণ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের সদস্যরা অপতৎপরতা চালাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, রাজধানীর আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে ডিএমপি নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে। পুলিশের পাশাপাশি নগরবাসীও সহায়তা করছে। আজকে তারা আমাদের বেশ ভালোভাবে সহায়তা করেছে। এই সহায়তা যেন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকে সেজন্য আহ্বান জানাচ্ছি।
ঢাকা মহানগরীর প্রতিটি থানা এলাকায় ঝটিকা মিছিল ঠেকাতে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি ডিবি, কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের সদস্যরাও কাজে লাগানো হচ্ছে।
এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, যারা মিছিলকারীদের বা কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের অবস্থান জানাতে পারবে তাদের পরিচয় গোপন রাখা হবে। আর তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার পর গ্রেপ্তার হলে মিছিলের সংখ্যা কমে আসবে।
