বিশ্বাসের প্রতিধ্বনি নিউজ ডেস্কঃ নিচের উপদেশগুলো আমার ডায়রীতে লিখা ছিল। এগুলো আব্বার শেষ সময়ে আমাকে বলা। অধিকাংশই বিছানায় শুয়ে শুয়ে। রাতে ঘুম হতো না তখন বসে বসে আমি খেদমত করতাম, আব্বা ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে গল্প বলতেন। রাজনীতি, অর্থনীতি সব আলোচনাই হতো। শিল্প-সংস্কৃতি থেকে আধ্যাত্মিকতার তা‘লীম নিতাম বাবার কাছে ছোটবেলা থেকে। সেসব তো লিখে রাখা হয়নি। বাবা আজ জীবনের বেলাশেষে। মনে হলো, আমার জীবনের পাথেয় হিসাবে কিছু কথা লিখে রাখি। আজ আব্বা নেই তার উপদেশগুলো আমার জীবনের পাথেয়… প্রথম পর্বে ১ থেকে ১৫ ছিলো। ২য় পর্বে স্বাগত আপনাকে…
১৬. তুমি জীবনকে সবার সাথে ভাগ করবে। যখন তুমি তোমার দুঃখ কষ্টকে অন্যও সাথে ভাগ করতে পারবে না, তখন সীমাহীন দুঃখ তোমাকে গ্রাস করবে। পরিবার, প্রিয়জন, বাবা-মা, সন্তানদের সাথে সবসময় তুমি তোমার যাবতীয় সুখ ও দুঃখকে ভাগ করে নিবে।
১৭. তোমার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে কখনো অবহেলা করবে না। এমনকি পিতা হিসাবে সন্তান লালন-পালনের দায়িত্ব যথাযথ পালন না করলে এই সন্তান কেয়ামতের দিন বিচার চাবে। সন্তান তোমার কোন কাজে আসবে না। ছোট থেকে ছোট, আর বড় থেকে বড় জিম্মাদারী যা আল্লাহ প্রদত্ত তা হক আদায় করে পালন করার চেষ্টা করলে আল্লাহ কুদরতি সাহায্য করবেন। তোমার পক্ষে আল্লাহর গায়বী মদদ ও নুসরত থাকবে।
১৮. আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করবে না। কোন আত্মীয় বাড়িতে বা বাসায় এলে মনে মনেও বিরক্ত হবে না। তাদের দীল খোলে মেহমানদারী করবে। এতে তোমার রিজিকে বরকত বেড়ে যাবে। মেহমান খেতে না চাইলেও তার প্লেটে জোর করে খাবার দিবে, যাতে তার দীল খুশি হয়।
১৯. মনে রাখবে, আত্মীতার হক নষ্ট করলে দুআ কবুল হয় না। বিশেষ করে যেসব আত্মীয় তোমাকে কষ্ট দিয়েছে বা যারা গরীব তাদের সাথে বেশি যোগাযোগ রাখা। তাদেরকে মন খোলে আতিথেয়তা করা ঈমান ও ইসলামের দাবি।
২০. পাড়া-প্রতিবেশির হক আদায় করিও। কারণ তোমার বিপদে এমনকি মৃত্যুর দিন তারাই খাটিয়া বহন করবে, গোসল দিবে, তোমার কবর খনন করবে। পাড়া-প্রতিবেশিকে নিজের আত্মার আত্মীয় মনে করবে। তাদের অসম্মান হয় এমন কোন কাজ করবে না কখনো।
২১. সন্তান হিসাবে তোমার কাছে অনুরোধ, গরীব আত্মীয়দের বেশি করে দান করবে। জাকাত হিসাব করে তাদের দিবে। তারা আগে হকদার। সৈয়দ কোন আত্মীয়কে কখনো যাকাত দিবে না। তাদেরকে তোমার হালাল মাল থেকে হাদিয়া দিবে।
২২. মনে রাখবে, তোমার রবকে অসন্তুষ্ট করে সুখী হতে চেষ্টা করবে না। এটা অসম্ভব। আমি এ অপচেষ্টার ভয়াবহ পরিণতি বহু দেখেছি। আর আল্লাহ তোমার উপর সন্তুষ্ট থাকলে সারা দুনিয়া তোমার বিপক্ষে গেলেও তোমার কোন ক্ষতি নেই; তুমি জিতে যাবে।
২৩. মানুষকে কখনো তুচ্ছ্য-তাচ্ছিল্য করবে না। সে যত নিচু কাজই করুক, তাদের সম্মান করবে। তোমার অধঃস্তনদেরকে সম্মান করে সম্বোধন করবে। এত তাদের দীল খুশি হবে, তারা তোমার জন্য জীবন দিতে চাইবে। তোমার কাজে বরকত হবে। বিশেষ করে বাসার দারোয়ান, কাজের লোকদের সাথে তুই-তুকার শব্দ কখনো ব্যবহার করবে না। তারা যা পারবে না, সে কাজ বা বুঝা তাদের উপর চাপিয়ে দিবে না। তাদের কাজে নিজেও সাহায্য করবে।
২৪. নিজে পরিশ্রম করে বড় হবে। হঠাৎ কোন আলাদীনের চেরাগ পেয়ে লাফ দিয়ে বড় হওয়ার চেষ্টা করবে না। চেষ্টা করবে, তোমার জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও মেধাকে কাজে লাগাবার। এসব দিয়ে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে। নিজের মেধাকে কাজে লাগাবে।
২৫. মানুষকে প্রতিদানের আশায় কোন কিছু করবে না। বিশেষ করে নিকটাত্মীয়দের। তাদের আল্লাহর ওয়াস্তে করবে। এত তারা তোমাকে কিছু না করলে বা কোন কষ্ট দিলে, তাতে তোমার কষ্ট হবে না। তুমি আল্লাহর কাছে এর বদলা পাবে। ভালো সকল কাজের প্রতিদান একমাত্র আল্লাহর কাছেই চাইবে। তিনি তোমাকে এমন প্রতিদান দিবেন যা দুনিয়ার সকল মানুষ চেষ্টা করেও দিতে পারবে না।
২৬. প্রিয়পুত্র! মনযোগ দিয়ে শুনে রাখো, অন্যের দোষের পেছনে পড়ে নিজেকে ধ্বংস করো না। মানুষের দোষচর্চা করার মতো ভয়ংকর ব্যাধি থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখবে। মানুষের দোষের ভালো ব্যাখ্যা করবে। দোষের ভেতর গুণ খোঁজার চেষ্টা করবে। আর নিজের গুণের ভেতর দোষ খোঁজার চেষ্টা করবে। এটি করতে পারলে তুমি সফল মানুষ হয়ে উঠবে।
২৭. মনে রাখবে, নিচের হাত থেকে উপরের হাত উত্তম। তাই পাওয়ার চেষ্টা না করে অন্যকে দেয়ার চেষ্টা করবে। অন্যের মাল খেয়ে নিজের সন্তানদেরকে মানুষ করা যায় না; সন্তানদের মানুষ করতে হয় হালাল মাল দ্বারা।
২৮. এমন কোন কাজ করবে না, যাতে তোমার সন্তানদের উপর এর প্রভাব পড়ে। আবার নিজের চিন্তা ও দর্শনকে সমাজের কাছে বিকিয়ে দিবে না। তোমার কাজ সমাজ এখন গ্রহণ না করলেও এক সময় এই আদর্শই মানুষের কল্যাণে কাজে আসবে। তাই ভালো কাজ কখনো সমাজ, দেশ আর রাষ্ট্রীয় প্রভাবের কারণে ছেড়ে দেয়া এটি আদর্শচ্যুতি। আর আদর্শচ্যুত কোন মানুষ ইতিহাসে স্থান করে নিতে পারে না।
২৯. কখনো নিজেকে দায়িত্ব পালনে আড়াল করো না। এটি কাপুরুষতা। দায়িত্ব আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে। তা যথাযথ আদায় করলে মানুষের মযাদা বৃদ্ধি পায়।
৩০. আখলাকের সৌন্দর্য হলো আসল সৌন্দর্য। তোমার চারিত্রিক উৎর্কষতাই তোমার খান্দানের পরিচয় বহন করবে। তুমি যত সম্ভ্রান্ত পরিবারের হবে, তোমার বিনয়ভাব ততো বেশি হবে।
