চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজ নির্দেশ দিয়েছেন, নগরে আগ্নেয়াস্ত্র বহনকারী এবং অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের দেখামাত্র সাবমেশিন গান (এসএমজি) দিয়ে ব্রাশফায়ারের।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে সাম্প্রতিক কয়েকটি হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে এ নির্দেশনা দেন তিনি।
গত ৫ নভেম্বর নগরীর বায়োজিদ বোস্তামী থানার চালিতাতলীর খন্দকারপাড়া এলাকায় চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর জনসংযোগ চলাকালে সন্ত্রাসীদের গুলিতে মারা যান তালিকাভুক্ত আরেক সন্ত্রাসী সরোয়ার হোসেন বাবলা। গুলিতে আহত হন এরশাদ উল্লাহ নিজেও। সরোয়ারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অস্ত্র, হত্যাসহ ১৫টি মামলা রয়েছে। এর পরদিন আবার একই এলাকায় গুলিতে আরও একজন আহত হন।
সিএমপি কমিশনার বলেন, “শটগান হবে না, চায়না রাইফেলও বাদ, এখন এসএমজি ব্রাশফায়ার মুডে থাকবে।”
হাসিব আজিজ বলেন, “সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী যারা তাদের জন্য এই নির্দেশনা। আমার এলাকায় ঢুকে প্রকাশ্য দিবালোকে একটা খুন করে গেল। এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে তারা যেন আর সাহস না পায়। চট্টগ্রাম নগরে ঢুকে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর বিষয়ে যেন স্বপ্নেও কল্পনা করতে না পারে, সেজন্যই এই ব্যবস্থা।”
চট্টগ্রাম নগরকে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হতে দিতে পারি না উল্লেখ করে ওয়্যারলেস বার্তার বিষয়ে জানতে চাইলে সিএমপি কমিশনার বলেন, “অস্ত্রধারীদের দেখামাত্র গুলি করে হত্যার স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছি। আশা করছি আমার অধীনস্ত বাহিনী এই আদেশ পালন করবেন।”
সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, “যেভাবে জনসংযোগে ঢুকে প্রকাশ্য গুলি চালিয়ে একজনকে হত্যা করা হয়েছে- এটা আমাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়। একটি নগরে পুলিশ থাকবে আবার সেই নগরের মানুষ নিরাপত্তাহীন থাকবে, সেটা হতে পারে না। অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের দেখলেই গুলি করবে। পাশাপাশি চেকপোস্ট বাড়ানো হয়েছে।”
হাসিব আজিজ আরো বলেন, “যেকোনো পরিস্থিতি ও নাশকতা এড়াতে টহল টিমগুলোকে এসএমজি ছাড়া শটগান, দুটি গ্যাসগান ও টিম ইনচার্জ নাইন এম এম পিস্তল বহন করবেন।”
এছাড়াও নগরীর স্থায়ী চেকপোস্ট সাতটি থেকে বাড়িয়ে ১৩টি করার নির্দেশ দেন পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ।
